ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে আলোচনা Eid E Milad Un Nabi 2024

 ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে আলোচনা 

ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে আলোচনা


আজ ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ৫৭০ সালের এই দিনে মানব জাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত মহানবী হযরত মুহম্মদ (স.) এর শুভ আবির্ভাব ঘটে।

 ঈদে মিলাদুন্নবী (স) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস আলাদা আলাদা দিয়েছেন। তাঁরা মহানবী (স.)-এর জীবনা ও আদর্শ অনুসরণ করে মানব জাতীর কল্যানে ভ্রাতৃত্ববোধে ব্রতী হওয়ার জন্য সকল স্তরের মানুষদেরকে আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মিলাদুন্নবী (স) উপলক্ষে দেশবাসী সহ মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন । রবিবার এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, খাতামান নাবিয়্যিন, রাহমাতাল লিল আ’লামিন, সর্ব্রশ্রেষ্ট ও সর্বশেষ নবী ও রাসূল, নবীকূল শিরোমণি, নবীদের ইমাম হযরত মুহাম্মদ মস্তফা (স) এর আবির্ভাব ও তিরোধানের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স) সারাবিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মহিমান্বিত ও পবিত্র একটি দিন। 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান ‘মদিনা সনদ’ ছিল মহানবী (স.)’র বিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার প্রকৃষ্ট দলিল। এই দলিলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সর্বজনীন ঘোষণা রয়েছে ধর্মীয় ও প্রার্থিব জীবনে তার শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। তার জীবনাদর্শ আমাদের সবার জীবনকে আলোকিত করুক, আমাদের চলার পথের পাথেয় হোক, মহান আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করি।


মহান আল্লাহ আমাদের মহানবীর সুমহান আদর্শ যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দিন। এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (স.) নামে পরিচিত। ৫৭০ সালের এই দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) আরবের মক্কা নগরীর সভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.)।

তার জন্মের আগে গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। ওই সময় আরবের মানুষ মহান আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। এ যুগকে বলা হতো ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’র যুগ। তখন মানুষ হানাহানি ও কাটাকাটিতে লিপ্ত ছিল এবং মূর্তিপূজা করত। এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহতাআলা রাসূলুল্লাহ (স.)-কে দুনিয়ায় প্রেরণ করেন।


মহানবী (স.) অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেমে অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। পঁচিশ বছর বয়সে মহানবী বিবি খাদিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি নব্যুয়াত লাভ বা মহান রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য লাভ করেন। পবিত্র কুরআন শরিফে বর্ণিত আছে-মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না’।


যার কারণে তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের (পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর) গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকেন।

 ঈদে মিলাদুন্নবী (স) উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য বজায় রেখে আজ সোমবার থেকে তিন দিনব্যাপী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স) মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিভিন্ন ইসলামিক দল।


প্রতি দিন মাগরিবের সময় থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত একটানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হবে ঈদে মিলাদুন্নবী (স) মাহফিল। দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ কামনায় দোয়ার পাশাপাশি দেশ বরেণ্য ওলামা মাশায়েখ, ইসলামিক স্কলার, সুবিখ্যাত ওয়াজিনগণ এ মহতি মাহফিলে প্রিয় নবী (স.) এর জীবন, কর্ম, অবদান, আদর্শ সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। সকল আশেকে রাসূল ভাই ও বোনদের আয়োজিত এ মাহফিলে অংশগ্রহণের জন্য সংগঠন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ অনুরোধ করেছেন।


্এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে চট্টগ্রামের আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভা-ারীয়ার উদ্যোগে আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিউটিশনে জশনে জুলসের আয়োজন করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ও মাইজভা-ারীয়া। সভাপতিত্ব করবেন, দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন শাহসূফী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ আল হাসানী মাইজভা-ারী। 

চট্টগ্রামের অপর প্রতিষ্ঠান কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)  মোহাম্মদ আবুল মনছুরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মাওলানা কাজী মোহাম্মদ আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকী মাওলানা জসিম উদ্দীন নূরী ও মাওলানা গোলাম রাব্বানী ফয়সাল।


ঈদে মিলাদুন্নবী (মিলাদুন্নবী বা ঈদে মিলাদ) হল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উদযাপনের একটি ধর্মীয় উৎসব। এটি আরবি ভাষায় "মাওলিদ আন-নবী" নামে পরিচিত, যেখানে "মাওলিদ" অর্থ জন্ম এবং "আন-নবী" অর্থ নবী। মুসলিম বিশ্বে এটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পালন করা হয়, বিশেষ করে সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে।


উৎসবের তাৎপর্য:

ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের মূল উদ্দেশ্য হল প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, কর্ম এবং তাঁর শিক্ষা স্মরণ করা। নবী মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক, এবং তাঁর জন্ম মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তাঁর জীবন, নৈতিকতা, এবং মানবতার প্রতি তাঁর অবদান উদযাপিত হয় এই দিনে।


ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের রীতি:

মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে:


কুরআন তিলাওয়াত: আল্লাহর প্রশংসায় কুরআন থেকে আয়াত পাঠ করা।

নবীর প্রশংসাসূচক গান (নাতে রাসুল): নবীর জীবনের প্রশংসা ও তাঁর মহানুভবতা তুলে ধরে বিভিন্ন ইসলামী গান গাওয়া।

সিরাতুন্নবী আলোচনা: নবীর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আলোচনা ও বক্তৃতা দেওয়া।

দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণ: অনেক স্থানে দরিদ্রদের মধ্যে খাবার ও অন্যান্য উপহার বিতরণ করা হয়।

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ:

ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন প্রথম শুরু হয়েছিল ফাতিমীয় খিলাফতের সময়, যা ছিল শিয়া মুসলিম শাসনাধীন। তবে পরবর্তীতে এটি সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। যদিও কিছু ইসলামী ধর্মতত্ত্ববিদ মিলাদ উদযাপনকে বিদআত (ধর্মীয় নতুনত্ব) বলে মনে করেন, অনেক মুসলিম বিশ্বাস করে যে এটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের একটি বিশেষ দিন।


দিনক্ষণ:

ঈদে মিলাদুন্নবী হিজরি ক্যালেন্ডারের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে পালিত হয়। যদিও কিছু মুসলিম ৯ থেকে ১২ রবিউল আউয়াল পর্যন্ত এই দিনটি উদযাপন করে থাকে।


উপসংহার:

  ঈদে মিলাদুন্নবী মুসলমানদের জন্য নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালবাসার প্রতীক। নবীর শিক্ষা ও আদর্শ জীবনে অনুসরণ করার এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার এই বিশেষ দিনটি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

Post a Comment

Previous Post Next Post